নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ করি, শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ি

আমরা তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশে বসবাস করি । সময়ের পরিক্রমায় উন্নত দেশের মত আমাদের চিন্তাভাবনারও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে, একটা জায়গায় আমরা এখনও উন্নতি করতে পারছি না। আর তা হল, নারী ও পুরুষের সমতা কিংবা নারীর প্রতি পুরুষের পুরুষতান্ত্রিক আচরণ দূরীকরণ করা। আমাদের সমাজে একটি শিশুর জন্মের পর থেকেই নারী-পুরুষ ভেদে বৈষম্যের শিকার হয়। দেখা যায়, ছেলে সন্তান জন্ম নিলে অভিভাবকরা খুবই খুশি হন, ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী আযান কিংবা গীত পাঠ করেন। কিন্তু মেয়ে জন্ম গ্রহন করলে তার কিছুই পালন করা হয় না। আরো লক্ষ্য করা যায়, যখন কোন পরিবারে ছেলে-মেয়েরা খেতে বসে, সেখানেও ভাল খাবার ছেলের পাতেই যায়। মা, নিজে একজন নারী হওয়া সত্বেও ছেলের প্রতি বেশি সমাদর করে থাকেন। যা কোন ভাবেই বাঞ্ছনীয় নয়। এভাবে শৈশব থেকেই একটা ছেলে কিংবা মেয়ে তার গুরুত্ব ও গুরুত্বহীনতা বুঝতে শুরু করে। যার ফলে, আমরা যতই নারী-পুরুষ সমান অধিকার বলে থাকি, তার বাস্তবায়ন করা সম্ভবপর হচ্ছে না। বরং ছেলে মেয়ের প্রতি বিরুপ আচরণ করছে, পুরুষ নারীর প্রতি সহিংস আচরণ করছে। এসব অসংগতি জন্মের পর থেকেই নারী-পুরুষ ভেদে লক্ষ্য করা যায়। বর্তমানে সব ধরণের কর্মক্ষেত্রে নারীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় এমন কোন ক্ষেত্র নেই, যেখানে নারী সুচারুভাবে কাজ করতে পারছে বরং সর্বক্ষেত্রেই পুরুষতান্ত্রিকতার বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে গেছে। জন্মের পর থেকেই নারীকে অবলা মনে করা হয়। বিশেষ করে গ্রামীন জনগোষ্ঠীর মধ্যে এর প্রভাব বেশি লক্ষ্য করা যায়। নিজের ঘর থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,অফিস-আদালত,বাস, কর্মক্ষেত্রসহ সর্ব জায়গায় নারীরা হয়রানির শিকার হচ্ছে। কিন্তু কেন! ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় ছিনিয়ে আনতে যাদের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের প্রতি কেন এমন রূঢ় আচরণ!

আজকাল পত্রিকা খুললেই চোখে পড়ে, শিশু ধর্ষণ থেকে শুরু করে নারী নির্যাতনের করুণ চিত্রপট। বর্তমানে নারীর প্রতি সহিংসতা ব্যাপক আাকর ধারণ করেছে। নির্যাতনের শিকার হয়েও অনেক নারী ই লোকলজ্জার ভয়ে মুখ খোলেন না। এমনকি যারা প্রতিকূলতা কাটিয়ে প্রতিবাদ করেন তারাও সুষ্ঠু বিচার পান না। বরং প্রতিবাদ করতে গিয়েও অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হন। যার ফলশ্রুতিতে দিনের পর দিন নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়েই চলছে। এসব অসংগতি দূর করার জন্য নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। যেখানেই দেখা যাবে, নারীর প্রতি সহিংস আচরণ হচ্ছে কিংবা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, সেখানেই প্রতিবাদ করতে হবে। প্রতিরোধ করতে হবে। তাহলেই নারীর প্রতি সহিংসতা দূর করা সম্ভবপর হবে।

কবি নজরুল ইসলামের বিখ্যাত উক্তি আছে যে, “পৃথিবীতে যা কিছু মহান সৃষ্টি চিরকল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর”। পৃথিবীর কোন কিছুই একা পুরুষের পক্ষে সম্পাদন করা সম্ভবপর হয় নি, আর হতেও পারে না। কোন জাতিই নারীদের দমিয়ে রেখে উন্নতি করতে পারে না।

এজন্য, সমাজ তথা দেশের উন্নয়নের জন্য আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। নারীদের অধিকার আদায়ে সচেতন হতে হবে। পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবের পরিবর্তন করতে পারলেই এগিয়ে যাবে সমাজ, এগিয়ে যাবে দেশ। এবারের নারী দিবসের মূল লক্ষ্যই হোক আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করে দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় নারী-পুরুষ সমান অবদান রাখতে সহায়তা করা। আসুন আমরা সবাই একতাবদ্ধভাবে, “নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ করি, সুষ্ঠু ও সুন্দর সমাজ গড়ি”।

জয়নুল হক
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

1 comment

  1. Joynul_hoq

    My Writeup

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *